তরুণ ও যুব সমাজকে প্রলুব্ধ করছে তামাক কোম্পানি

তামাকের ক্ষতিকর বিষয়গুলো এখন আর কারও অজানা নয়। তারপরও মানুষ বিশেষ করে দেশের তরুণ ও যুব সমাজ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছে। কারণ তামাক কোম্পানির প্রলোভনমূলক বিভিন্ন পুরস্কার ঘোষণা ও চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে।

তামাক কোম্পানিগুলো তরুণ ও যুব সমাজকে বিভিন্নভাবে উৎসাহ প্রদান যেমন টি-শার্ট উপহার, মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ, সিগারেট সেবন করলে স্মার্ট লাগে ইত্যাদি অসৎ প্রচারণার মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে তাদের দ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে।

যদিও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তামাক নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক হলেও কোম্পানিগুলো বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

এদিকে অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবে তামাকের ব্যবহার কমাতে এবং রাজস্ব বাড়াতে কর বৃদ্ধির সুপারিশ করা হলেও তা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট, বিড়ি, জর্দা এবং গুলের দাম ও শুল্ক বাড়ানো হয়নি।

এই সময়ে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি বিবেচনায় এসব তামাকজাত দ্রব্য আগের বছরের তুলনায় আরও সস্তা ও সহজলভ্য হয়েছে। এর ফলে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ বিশেষ করে কিশোর, তরুণ ও নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিকর তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও কর বাড়িয়ে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যে ভর্তুকি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গাজীপুরে কর্মরত বেসরকারি সামাজিক প্রতিষ্ঠান সিডাস।

তামাকজাত দ্রব্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিজ্ঞজনেরা মনে করেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর বৃদ্ধি একটি স্বীকৃত কার্যকর পদ্ধতি।

সম্প্রতি সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট এসিসটেন্স এন্ড সার্ভিসেস (সিডাস) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের টেকনিক্যাল সাপোর্টে গাজীপুর জেলায় তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তামাক কোম্পানিগুলো ২০২০ সালে কী ধরনের কৌশল অনুসরণ করেছে, সে বিষয়ে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কর বৃদ্ধিতে কার্যত সংস্থার প্রেরণকৃত তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

তামাকজাত কোম্পানিগুলো বিড়ি-সিগারেট একটি শিল্প, একে টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ নানা কৌশলে দাবি তুলে সরকারকে বিভ্রান্ত করছে। যদিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে শক্তিশালী একটি করনীতি প্রণয়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

তামাকবিরোধী সংগঠন এবং রাষ্ট্রের কল্যাণ প্রত্যাশী নীতিনির্ধারক ও জনপ্রতিনিধিরা তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসলেও প্রতি বছর কোম্পানিগুলো কর বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে নানা অপকৌশলে লিপ্ত হয়। যা আমাদের নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে অশনিসংকেত রূপে দেখা দিচ্ছে।

-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরও খবর

Contact Us